জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১২

ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণ: আগ্রাসনের টুঁটি চেপে ধরার এখনই সময়

ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণ: আগ্রাসনের টুঁটি চেপে ধরার এখনই সময়



বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের আদালত ইন্টারনেটে বিশেষ করে ফেসবুক, গুগল, ইয়াহু এবং অন্যান্য সকল সাইট থেকে
ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিকারী অপ-প্রচার, বিভ্রান্তি মূলক সকল পোস্ট মুছে দেয়ার আদেশ দিয়ে প্রায় ১২ কোটি ব্যবহারকারীর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে
বলা হচ্ছে ভারত সরকার নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের দক্ষতা এবং সংঘবদ্ধ হবার ক্ষমতা দেখে এই প্রথম কিছুটা ভীত হয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরেই ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষ স্থানে আছে।

কোটি কোটি ব্যবহারকারীদের জন্য ইন্টারনেটের নির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই ফলে যৌনতা,পর্ণ-গ্রাফি গোটা ভারতে ভয়াবহ থাবা বিস্তার করেছে।
এছাড়াও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একশ্রেণীর কট্টর হিন্দু সমালোচক এবং উস্কানি দাতাদের কারণে
যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যদিও দেশটির নীতিনির্ধারক মহল দেশটিতে মধ্যপ্রাচ্যের নেয় আরব বসন্তের ভয় করছেন না।
একজন ভারতীয় নাগরিকের সাথে আলাপ কালে জানা গেল যে, "ভারত সরকার ইন্টারনেট সহজ লভ্য করেছিলেন দুটি কারণে।
প্রথমত সাইবার ক্রিমিনাল তথা সন্ত্রাসবাদ দমনে, সন্ত্রাসীদের খুব সহজে খুঁজে বের করতে। ভারতের সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে সেদেশের পুলিশ অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এছাড়াও চিহ্নিত কিছু অপরাধী, বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সনাক্ত করতেও ইন্টারনেট অবাধ রেখেছিলেন।
যৌন বা পর্ণ সাইটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিজিটরের আইপি এড্রেস সংগ্রহ করছে, তার কম্প্যুটারের নিরাপত্তা ছিদ্র ভেদ করে ঢুকে পরছে সিস্টেম এর ভেতরে।
ফলে অপরাধী যেখানে বসেই অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করুক না কেন ধরা পড়ে যাচ্ছে।"

তাঁর মতে পাকিস্তানী অভিনেত্রী ভীনা মালিকের নগ্ন ছবি ভারতীয় মিডিয়ায় ফলাও করে ছাপার পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলমানরা ক্ষেপে উঠে।
ফতোয়া ডট ওআরজি এবং একজন সাংবাদিক আদালতে মামলা করলে আদালত উপরিউক্ত রায় দেন।

আমাদের দেশে ইন্টারনেট অবাধ এবং উন্মুক্ত হওয়ার কারণে উঠতি বয়সের তরুণ এবং যুব সমাজ ক্রমশ অশ্লীলতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে যৌন ছবি, যৌনতার অবাধ গতি বাংলাদেশে!
সাইবার ক্যাফেগুলোতে ১৩-২৫ বছর বয়সীদের ভীড় ব সময়। কাফে মালিকরা হিস্টোরি ডিলিট তো করেন-ই না। তারা বেশ কিছু পর্ণ সাইট ফেভারিট/বুকমার্ক লিষ্টে সতনে রেখে দেন।
ইন্টারনেটে ডেটিং সাইট, চলমান পতিতালয়, পর্ণ-মুভি খুবই সহজ লভ্য! ফলে দেশের তরুণ সমাজ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

এরা ইন্টারনেটের অপ-ব্যবহার করে অকালপক্ব হয়ে উঠছে। এডভেঞ্চারের নেশায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে কিম্বা নানা ভাবে
সখ্যতা তৈরি করছে। নানা ধরনের যৌন-উত্তেজক ড্রাগ খাবার বা পানীয়ের সাথে মিশিয়ে পান করিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
এসব ঘটনা গোপন ক্যামেরা, মুঠোফোনে ধারণ করে তা ইন্টারনেটে আপলোড করছে, (মান-সম্মানের ভয়ে ভিক-টিম গণ-ধর্ষণের কথাও গোপন রাখছে) ব্ল্যাক-মেইল করছে।
এধরনের ঘটনায় আত্মহত্যার মত অকাল মৃত্যু ঘটছে। পর্ণ সিডিতে দেশ ছেয়ে গেছে।

সব কিছু ছাপিয়ে যেটা বেশি নজরে পরছে তা হলো, এসব ছেলে মেয়ে অনেকটাই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ছে, নেশার প্রতি ঝুঁকে পড়ছে,
পতিতালয় গমন, অনিরাপদ যৌন সম্ভোগে জড়িয়ে পড়ছে এতে যৌনরোগ তথা এইডস, হেপাটাইটিস এর মত ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার ঘটছে।

ইন্টারনেটে অবাধ বিচরণ আমাদের কাম্য নয়। ধর্মীয়, মানবিক এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে ইন্টারনেটের আগ্রাসন রোধ কার সময় এসেছে।
যৌনতা, নগ্নতা, পর্ণ-গাফি, সাইবার অপরাধ রোধে কার্যকর আইন চাই।
ছবিঃ ইন্টারনেট

রোমানা মঞ্জুরের স্বামী সাইদ হাসানের মৃত্যু: সমাজের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন

রোমানা মঞ্জুরের স্বামী সাইদ হাসানের মৃত্যু: সমাজের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন


বসে বসে টিভির খবর দেখছিলাম সম্ভবত (RTV খবর) হঠাৎ করেই দেখলাম, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষিকা রুমানার স্বামী সাইদ হাসান আত্মহত্যা করেছেন!"

ফুটেজে ছবি ভেসে উঠলো শশ্রুমন্ডিত একজন বয়স্ক লোক সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় তর্জনী উঁচিয়ে, তর্জনী সবার দিকে ঘুরিয়ে বলছিলেন, "রুমানা মনজুর ছিল আত্ম-স্বীকৃত ব্যভিচারিণী। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী মিডিয়া। আমি একজন পুরুষ মানুষ দেখিনি! আপনাদের মধ্যে কেউ পুরুষ নন! " এরপর আর কোন চ্যানেলে তাঁর ঐ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পাইনি।


****
এরই মধ্যে সবাই জেনেছি, মঞ্জুরকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাইদ হাসান কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ই ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মারা গেছেন। সাইদ মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে কমোডের ভেতর মুখ চেপে ধরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছিল হাসপাতাল সূত্র। এ সময় তার হাত বাঁধা অবস্থায় ছিল বলেও জানা যায়। কারা কর্তৃপক্ষ সাইদের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও তার পরিবার এটিকে "পরিকল্পিত হত্যা" বলে অভিযোগ করেছে।


****
সাইদের অমানবিক নির্যাতনে রুমানা সারাজীবনের জন্য তার দু’টি চোখ হারান। দশ বছরের ছোট নাভেদ তাহের দীন নামক এক যুবকের সাথে সাথে রোমানার পরকীয়া ছিল বলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলছিলেন । তথাকথিত নারীবাদী, মিডিয়া সহ অনেকেই রুমানার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তর্জনী উঁচু করেছিল সাইদের দিকে!
নিঃসন্দেহে নিহত সাইদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি গুরুতর ছিল। মামলাটিও বিচার প্রক্রিয়াধীন ছিল।

****
অথচ স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাইদকে মানসিক রোগাক্রান্ত বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।
একজন স্ত্রী রোমানা কিম্বা তাঁর পরিবারের কেউ-ই ঘটনাটি ঘটবার আগ পর্যন্ত জানলো না, "সাইদ অপ্রকৃতিস্থ ছিল! তাহলে সাইদ কি গুণ্ডা ছিল? নারী ধর্ষণকারী, ব্যভিচারী? মাস্তান, মাতাল কিম্বা মদ্যপ?
কত সুন্দর কাহিনী বিন্যাস, কেউ-ই অভিযুক্তের কথা শুনল না! আমরা বিচারটি দেখতে পেলাম না।

****
সাইদের বাবা সাইদ আহমেদ কবির পরে সাংবাদিকদের আরো বলেছিলেন, "আপনারা মিস ইউজড হয়েছেন। তখন রোমানার বেশ কিছু ঘটনার তথ্য প্রমাণ নিয়ে আপনাদের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা বলেছেন, আমি ক্রিমিনালের বাবা বড় ক্রিমিনাল। যখনই ছেলের জামিনের জন্য যেতাম, সেখানে কিছু নারী নেত্রী তার প্রতিবাদ করতেন। আর আপনারা তা সমর্থন করেন। ঘটনার নেপথ্যে কি ছিল তা আপনারা কখনো জানতে চাননি। তিনি গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, রোমানার বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রমাণ যে ক্যামেরায় ছিল ডিবি বাসা থেকে তা নিয়ে যায়। রোমানার চোখ ঠিক আছে। শুধু মিডিয়ার সামনে গেলে সে কালো চশমা পরে যায়। "

****
তাঁদের একটি কন্যা শিশু রয়েছে। ট্রমায় আক্রান্ত। যদি বলি এই শিশুটির আজকের অবস্থার জন্য একমাত্র দায়ী আমাদের সমাজ তাহলে কি কেউ দায় নেবেন
নারী নির্যাতন, নারীর অসম্মানের বিরুদ্ধে আমরা সবাই সোচ্চার। প্রচলিত আইনে তার বিচার হলে আমাদের কিছুই বলার থাকতো না।
ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা একটি দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আজকে সাইদকে হত্যার ইংগিত দেয়া হচ্ছে। কারাগারের প্রিজন সেলে দায়িত্ব-রতদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
বলা হয়েছে যে ধরনের কমোডে মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করা হয়েছে তা আদৌ সম্ভব নয়। পিছনে হাত বেঁধে রেখে একটি লোক আত্মহত্যা করলো, তাঁকে যেই চিকিৎসক চিকিৎসা করছিলেন তিনিও সাইদের মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি টের পেলেন না?

****
যারা রোমানার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তারাও সাইদের অভিযোগটি আমলে নেননি, পরকীয়ার বিষয়টিও না। সাইদ সমাজের নিষ্ঠুর এবং একপেশে আচরণে কেমন ছিলেন সেটা তিনিই জানতেন।
সবাই চুপসে গেছেন। তথাকথিত নারীবাদীরাও চুপসে গেছেন।

****
দায়িত্ব পালনে প্রিজনারের ব্যর্থতা, কর্তব্যে অবহেলার জন্য তার অপসারণ হয়েছে বলেও শুনিনি। দায়িত্ব-রত কারারক্ষীদের কর্তবে অবহেলার জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে এটাও না।
নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি? না হয়নি। রোমানা মঞ্জুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ কেউ খতিয়ে দেখছেন কি?। ডিবি পুলিশ কর্তৃক জব্দ-কৃত ছবি এবং আলামত জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে কি?
****
বড় হয়ে অনুশে কাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে নিবে? রোমানা মঞ্জুর নাকি বাবা সাইদের????

পোলিও মুক্ত বিশ্ব: চাই সচেতনতা । সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিতে হবে।

পোলিও মুক্ত বিশ্ব: চাই সচেতনতা । সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিতে হবে।



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গোটা বিশ্বকে অবাক হয়ে আরেকটি ভয়াবহ মহামারী দেখতে হয়েছিল। রোগটির নাম পোলিও।
এটি এক ধরনের ভয়াবহ সংক্রামক ভাইরাস এবং যে কোন সময় মহামারী রূপ ধারণ করতে পারে ।
এই ভাইরাসের আক্রমণ স্থল নার্ভ এবং মাংসপেশি। বিশেষ করে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বড়রাও বাদ যায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্টও পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
অনেক গবেষণার পর বিখ্যাত আমেরিকান চিকিৎসক জোনাস সাক এ পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ সালের সর্ব প্রথম শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়া হয়।
সেই থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংঘটনের উদ্যোগে পোলিও মুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পৃথিবী ব্যাপী পোলিও টিকা দেয়া হচ্ছে।

এ বছর বাংলাদেশে জাতীয় টিকা দিবস দুই পর্বে পালন করা হবে। প্রথম পর্ব পালন করা হবে ৭ই জানুয়ারি। এইদিন একদিন থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২ দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো হবে। সেই সাথে ৬ থেকে ১১ মাসের শিশুকে ১টি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে ১১ ফ্রেব্রুয়ারি। ঐদিন ১দিন বয়সী নবজাতক থেকে পাঁচ বছর বয়সের সকল শিশুকে ২ ফোঁটা পোলিও টিকা এবং দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুকে ১টি কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে।
এ জন্য সারাদেশে ১ লাখ ৪০ হাজার নির্দিষ্ট এবং ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য-কর্মী/ রোটারী ক্লাব এবং বেসরকারি স্বেচ্ছা-সেবকগন কাজ করবেন।
পোলিও রোগ: ইংরেজিতে Poliovirus (PV)/ Poliomyelitis কে পোলিও রোগ বলা হয়ে থাকে।
এটি Genus Enterovirus রক্তের RNA-তে প্রোটিন বন্ধনী তৈরি করে থাকে।

কিভাবে ছড়ায়: মূলত লালা, হাঁটি-কাশি, ব্যক্তিগত সংস্পর্শে এলে, আক্রান্তের ব্যবহৃত পানির গ্লাস ব্যবহার করলে, আক্রান্তের মল পুকুর, ডোবা বা জলাধারে মিশে গিয়ে, খাবার ইত্যাদির মাধ্যমেই পোলিও ভাইরাস ছড়ায় ছড়ায়। এটি মূলত মানবদেহের অন্ত্র এবং গলবিলে অবস্হান করে।

উপসর্গ: আনুমানিক ৯০ শতাংশ রোগীর জটিল কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়না। সাধারণত ৭ হতে ১৪ দিনের মধ্যে সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ডা. সাক তাঁর গবেষণায় প্রমাণ করনে, পোলিও মূলত তিন ধরনের Poliovirus type 1 (PV1), type 2 (PV2), and type 3 (PV3)।
তিন ধরনের আক্রমণের লক্ষণ:-
১। হালকা সংক্রমণ : জ্বরের মত ভাব, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, গলা ব্যথা, গলা বসে যাওয়া, হালকা জ্বর, মাথা ব্যথা

২। মাঝারি সংক্রমণ: আক্রান্তের শতকরা ৪-৮ ভাগ মাথা ব্যথা, জ্বর, বমি, গলা এবং শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ, ডায়রিয়া, লেথারজি(গা ম্যাজ ম্যাজ করা), মানসিকতার পরিবর্তন, মাংসপেশীতে ব্যথা যেমন পায়ের ডিম, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, পিঠে ব্যথা,পেটে ব্যথা, ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব ইত্যাদি ঘটতে পারে।

৩। ভয়াবহ সংক্রমণ: আক্রান্তদের শতকরা ৩ ভাগের কেন্দ্রীয় স্নায়ু তন্ত্র (Central Nervous System) আক্রান্ত হয়। এটাই পোলিও রোগের সবচেয়ে ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
রোগী শুরুর দিকে মাংসপেশিতে শক্তি না পাওয়া, চলাচলে দুর্বল হয়ে পড়া, স্প্যাসম (ঘাড়, পিঠ, হাত, বা পা) ঘাড় কাত করতে না পারা, ঘাড় সোজা করে না রাখতে পারা, পেট ফুলে যাওয়া,
শ্বাসরুদ্ধ/শ্বাস কষ্ট হওয়া, মুখের মাংসপেশিতে সংকোচন, খাবার গিলতে অসুবিধা, মুখ দিয়ে লালা ঝরা পড়া ইত্যাদি উপসর্গে ভোগে।
পরবর্তীতে আংশিক কিম্বা পরিপূর্ণ ভাবে পক্ষাঘাতের শিকার হয়। এবং অনেকের মেনিনজাইটিস রোগ হতে পরে।

এই Central Nervous System-এ আক্রান্ত রোগীর শতকরা ৭৯ ভাগ Spinal polio, শতকরা ১৯ ভাগ Bulbospinal polio শতকরা ২ ভাগ Bulbar polio নামক অসুখে আক্রান্ত হয়।
যার নিরাময় একেবারেই অসম্ভব।

নির্নয়ঃ
রক্তের CSF Analysis পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয়।

প্রতিরোধ: পোলিওর বিরুদ্ধে লড়তে টিকা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।
টিকা দু ধরনের। মুখে খাবার এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হয়।
মুখে খাওয়ানোর (OPV) এর চেয়ে ইনজেকশন বেশি কার্যকর বিধায় উন্নত দেশগুলোতে পোলিও ইনজেকশন বেশি প্রচলিত।
প্রথম ডোজের ২মাসের মধ্যে ২য়, ৪ মাসে ৩য় , ৬-১৮ মাসে ৪র্থ এবং ৪-৬ বছরের মধ্যে বুষ্টার ডোজ নিয়ে নিজে এবং পরিবারের সবাইকে পোলিও মুক্ত রাখা সম্ভব।

পোলিও দেশে দেশে: গত ৫ বছরে বাংলাদেশে কোন পোলিও রোগী শনাক্ত হয়নি। তবুও বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত দেশ ঘোষণা করা হয়নি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কারণে। ভারত এখনও পোলিও মুক্ত হতে পারেনি। তাই বাংলাদেশে পোলিও সংক্রমণের পুরো ঝুঁকি রয়েই গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী আশপাশের দেশগুলো পোলিও রোগের অবস্থা পরপর ৩ বছর শূন্যের কোঠায় থাকতে হবে। পোলিও মুক্ত হলেই বাংলাদেশও পোলিও নির্মূলের সনদ পাবে। সনদ না পাওয়া পর্যন্ত চলবে পোলিও টিকা দান কর্মসূচি।
আশার কথা বাংলাদেশ পোলিও নির্মূলের ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
দীর্ঘ এক দশক পর আবারও চীনে পোলিও রোগ ধরা পড়েছে । ১৯৯৯ সালের পর গতবছর চীনেও রোগটির অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

পোলিওর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এমন চারটি দেশ হলো আফগানিস্তান, ভারত,পাকিস্তান (পাকিস্তানে এ রোগ প্রায় মহামারী আকারে এখনো বিদ্যমান) ও নাইজেরিয়া।

পোলিও মুক্ত বিশ্ব গড়তে ইতিমধ্যে কানাডা সরকার, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, নাইজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ/দাতা সংস্থা পোলিও মুক্ত কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সতর্কতা/টিপস : পোলিও ঝুঁকি পূর্ণ দেশে ভ্রমণ করার আগে পোলিওর টিকা দিন। বড়দের জন্যও প্রযোজ্য।

আপনার দায়িত্ব: একটি প্রতিবেশী শিশুও যাতে বাদ না যায় তা নিশ্চিত করা আপনার সামাজিক এবং মানবিক দায়িত্ব।

দেশকে দক্ষ জন-সম্পদে সমৃদ্ধ করতে হলে শিশুর সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর অকালমৃত্যু রোধ করতে।
EPI তথা গুরুত্বপূর্ণ ৬টি টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে পারলেই ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, যক্ষ্মা, পোলিও, হাম, হেপাটাইটিস-বি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ার ইত্যাদির মত ভয়াবহ সংক্রমনের হাত থেকে আমাদের শিশুকে সহজেই বাঁচাতে পারি।

উপসংহার: বাচ্চা বাঁচান। নবজাত শিশুকে শাল-দুধ সহ মাতৃদুগ্ধ পান করান। এটি মায়েদের স্তন-ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বাঁচাবে। নির্দিষ্ট সময়ে ৬টি টিকা দিন।

তথ্য ও ছবি সূত্র: ইন্টারনেট।

ফিরে দেখা ২০১১: আলোচিত নাকি আলোকিত হবো

ফিরে দেখা ২০১১: আলোচিত নাকি আলোকিত হবো


*উচ্চ আদালতের রায় পাবার আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা জাতীয় সংসদে একতরফা ভাবে বিলোপ করে সরকারী দল ব্যাপক সমালোচিত হন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে বহুল আলোচিত ট্রানজিট এবং তিস্তা চুক্তি জন সমক্ষে প্রকাশ না করা, তিস্তা নৌকা চলাচলের অনুপযুক্ত করার কারণে, টিপা-মুখ বাঁধ নির্মাণে নীরবতা, ৯ মিনিটে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগের আইনটি জাতীয় সংসদে পাশ করার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হয়েছে।

*গত বছরে দেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত ঘটনা ছিল তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীরের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া। দেশের বিবেকবান মানুষেরা সোচ্চার হওয়া। যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে জাতীয় শহীদ মিনারে ঈদ উদযাপন করা। দুর্নীতির অজুহাতে পদ্মা সেতুর টাকা আটকে যাওয়া, বিনা পরীক্ষায় ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবার সুপারিশ কারী নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান খান।

*রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার গত বছর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল।

*যুতসই আন্দোলনের অনেক উপাদান থাকা সত্ত্বেও শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা এবং ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়ায় বিএনপি এবং তাদের রাজনীতি জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

*গত বছর ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা, অস্থিরতার একটি বছর অতীতের সরকারগুলোর ন্যায় বিরোধীদল ঠেকাতে সরকারের "জিরো টলারেন্স" মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
সরকারের মন্ত্রীবর্গ নানান ধরনের বক্তব্য দিয়ে অনেক বেশ সমালোচিত হয়েছেন। নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা, জাতীয় সংসদের হুইপের উপর আক্রমণ, হত্যা-গুম-খুন বেড়ে গিয়ে জনমনে আতঙ্ক বৃদ্ধি, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মৃত্যূদন্ড প্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা প্রধান বছরের আলোচিত ঘটনা ছিল।

*১৯৯৬ সালের মত শেয়ার বাজার থেকে হাজার কোটি টাকা লোপাটে দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করার ব্যর্থতা,আমদানি নির্ভর অর্থনীতি, বেসরকারি ব্যাংক গুলো থেকে ঋণ নেয়ার ঘটনা

*জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় সফরে সেঞ্চুরি করার জন্য, অসুস্থ চিকিৎসাধীন প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাককে দেখতে না যাওয়া, বিদেশ সফরে ফলপ্রসূ কিছু না পাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাক্তার দিপুমনি ব্যাপক সমালোচিত হন

*পুলিশকে উস্কে দিয়ে ,রাষ্ট্রীয় ভাবে লালন করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ঘুষখোর হিসাবে পরিচিত করার জন্য, পুলিশকে দলীয় ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী হিসাবে ধরে রাখার সার্থকতার জন্য, গুম খুন, দলীয় সন্ত্রাসকে লালন করার জন্য, মিরপুরের বহুল আলোচিত ছাত্র হত্যা, পুলিশের বুটের তলায় মানবতা হত্যার জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন

*জাতীয় ভাবে দ্রব্য মূল্যের দাম অসহনীয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি, ভোজ্য তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বৃদ্ধির ঘটনা, জীবন যাত্রার মান অসহনীয় বৃদ্ধি

সরকারের জঙ্গিবাদীদের নির্মূলে, RAB এর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কিছু সফলতাও রয়েছে।

পুনশ্চ: পুরনো কাসুন্দি ঘাটাঘাটি নয়। আমরা চাই রাজনৈতিক সহনশীলতা। গন মতের প্রতি শ্রদ্ধা, দলের লোক নয় দেশের ১৬ কোটি মানুষকেই সকল ক্ষমতার উৎস ভাবা হোক। দেশের আপামর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চাবিকাঠি রাজনীতিবিদদের হাতে, একমাত্র তাঁদের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতাই পারে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যার একটি দেশ বাংলাদেশকে স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি জাতি হিসেবে পরিচিত করতে।
ছবি: ইন্টারনেট

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১২

প্রসঙ্গ ছাত্রলীগের সন্ত্রাস: ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, রাশ টেনে ধরার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়




"সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয়না। যে ভালো ছাত্র, সে ভালো নেতা হয়না, যে দেখতে অপরূপা সে অনির্বচনীয় কবি হয়না। আর যে কল্পনা বিলাসী সে সবল মানুষ হয়না। আবার কখনো হয়। বাদশাহ আকবরের মত জাহাঙ্গীর হলেন না, কাজী নজরুলের মত কাজী সব্যসাচী হলেন না। বাপ গুনে পুত্র আর শিক্ষক গুনে ছাত্র সব সময় হয়না।"

"পোস্ট অফিসের সাধারণ কর্মচারী লিঙ্কন এক সময় আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাসী ব্যারিস্টার ফিরে এসে মহাত্মা গান্ধী হয়ে গেলেন।
হতে অসুবিধা নেই তবে সেই হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ ও ধারাবাহিকতা থাকতে হবে...."


পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালি জাতির উপর শোষণ বঞ্চনা আর বৈষম্য সৃষ্টি করে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আমাদের দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিল শুধু ইসলামের দোহাই দিয়ে, বাংলা ভাষা হিন্দুদের ভাষা বলে!
"উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা" হিসাবে জোর করে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। বাঙালি আর বাংলা ভাষা-ভাষীদের রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী
সব ক্ষেত্রেই এই বৈষম্য-ই একটি স্বাধীন,স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এক বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেদিন
সাড়ে সাত কোটি বাঙালির আজন্ম-লালিত স্বাধীনতার পথ প্রদর্শক হিসাবে নিজের আগমন জানান দিয়েছেন।
১৯৪৭ সালের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধু তরুণ এবং যুবকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সম্পৃক্ত করার চিন্তা করেন।
ফলশ্রুতিতে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ১০ দফা দাবী নিয়ে পূর্ববাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ যাত্রা শুরু করে।
১০ দফা দাবীর অন্যতম যে দাবীগুলো ছিল :- অবৈতনিক-বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রচলন, শিক্ষা সংকোচন নীতির প্রতিবাদ, বিনা ব্যয়ে সামরিক শিক্ষার প্রবর্তন। সেনা, নৌ, বিমান সহ সেনাবাহিনীর সকল ক্ষেত্রে পূর্ববাংলায় স্থাপনা তথা সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং সেখানে বাঙালিদের নিয়োগ ইত্যাদির দাবীতে ৮ই জানুয়ারি স্বৈরাচার বিরোধী দিবস, হরতাল, বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

১৯শে মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ " URDU AND URDU SHALL BE THE STATE LANGUAGE OF PAKISTAN"
ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু সহ উপস্থিত হাজার কণ্ঠের সমস্বরে "NO" "NO" ধ্বনিতে প্রতিবাদ, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দানের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু সহ ৬৫ জন নেতার গ্রেফতার। একই বছর ৯ই ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে অনশন-রত কম্যুনিস্ট কর্মী শিবেন রায়ের মৃত্যু।

বছর জুড়ে ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী গ্রেফতার হন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের "চরমপত্র" খ্যাত এম আর আখতার মুকুল, নুরুল হুদা কাদের বক্স, ছাত্রলীগের আহবায়ক দবিরুল ইসলাম গ্রেফতার হলে ঢাকা হাইকোর্টে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি "সর্বপ্রথম হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন" পরিচালনা করেন।

১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩রা মার্চ থেকে আন্দোলনরত নিম্ন পদস্থ কর্মচারীদের সমর্থন করার কারণে বঙ্গবন্ধু সহ ২৭ জন ছাত্র-ছাত্রী গ্রেফতার হন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে আইন অনুষদের ছাত্র বঙ্গবন্ধু'র আইনজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়। এর প্রতিবাদে সারাদেশে আন্দোলন ছিয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী দিবস পালিত হয়। ১৭ এপ্রিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ১৮-১৯ এপ্রিল ১৯৪৯ সালে ভিসি অফিসে ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘটের কারণে বঙ্গবন্ধু সহ অনেকেই গ্রেফতার হন। ২০শে এপ্রিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ছাত্রলীগ নেতার কাছে মুখ্য মন্ত্রীর পরাজয় ঘটে।
১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৪ সালে আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা রাজিউদ্দিন রাজুর নেতৃত্বে রাজপথ উত্তাল হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গভর্নর মোনেম খানকে কালো পতাকা প্রদর্শন করা হয়। ১৯৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে "জাগো বাঙালি জাগো" স্লোগানে কোটি মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে ছাত্রলীগ ১১ দফা দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৯৬৯ এর ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে বটতলায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ছাত্ররা সেদিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামে। ১৮ এবং ১৯ জানুআরি লাখো মানুষের ঢলে রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছিল, ১৪৪ ধারা ভেসে গিয়েছিল।
২১ জানুয়ারি অর্ধ দিবস হরতাল। ২২ জানুয়ারি সারাদেশে কালোব্যাজ ধারণ। ২৩ জানুয়ারি মশাল মিছিল। ২৪ সে জানুয়ারি অর্ধ দিবস হরতাল।
১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানে মন্ত্রীর গাড়িতে আগুন, ঘাতকের গুলিতে কিশোর মতিউর, আসাদ সহ অনেকে শহীদ হন।
১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা অনস্বীকার্য।

****
শিক্ষা,শান্তি, প্রগতি ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র।
এই মন্ত্রে দীক্ষিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্বাধীনতার পর সকল আন্দোলনে বিশেষ করে ১৯৮২-১৯৯০(মাঝে কিছু সময় ছাড়া) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকসুর প্রাক্তন ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন ছাড়াও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দলটি রাজপথে ছিল দৃপ্ত-কণ্ঠ, আগুয়ান!
স্বাধীনতার স্বপক্ষের, গণতন্ত্র-মনা, প্রগতিশীল সকল দলের সাথে পাশাপাশি সহ-অবস্থান করে দলটি তৃনমূল পর্যায়ে অত্যন্ত সংঘটিত হয়েছে।

মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের ঘৃণিত কর্মকাণ্ড দেখে উপরের কথাগুলো ইতিহাস থেকে টেনে না এনে উপায় ছিলনা।

"কিছুদূর পথ চলে সবাই এক এক করে বিচলিত হলেন। কেউ গাছেরটা খেলেন আবার তলারটা কুড়ালেন...একবার বললেন আধার ভালো, আবার বললেন আলোও ভালো.."

যাকেই জিজ্ঞেস করবেন চোখ বন্ধ করে সে বলে দেবে ছাত্রলীগ মানে হলো ধর্ষণের সেঞ্চুরি , বাধনের সম্ভ্রম, ইডেন কলেজের মেয়েদের পতিতা বৃত্তিতে বাধ্য করা, বিতর্কিত করা, টেন্ডার বাজি, চাঁদাবাজি, হত্যা, বিবদমান দুই গ্রুপের কোন্দলে খুনের উল্লাসে মত্ত একটি দল!

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগেও এরা লজ্জিত নয়! মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর তাঁর মন্ত্রণালয়ের পুলিশের নাকের ডগায় বিরোধীদলের কর্মীদের মারধর, হল দখল, রাজপথ, ফুটপাথ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু জবর-দখল প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কথা দেশের মানুষের কাছে এদের নতুন রূপে পরিচিত করেছে। "সোনার ছেলে" নামে এখন সবাই চেনে !
আজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, BUET, KUET এর ঘটনায় যখন সারা দেশে তোলপাড়, নিন্দার ঝড় চলছে ঠিক তখনই JU তে পরীক্ষার হল থেকে তুলে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হলো জোবায়েরকে! যোবায়ের হত্যায় সারাদেশের মানুষ নির্বাক! সারাদেশের মানুষ এদের আচরণে বীতশ্রদ্ধ।
***
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের গড়া দল জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা ছাত্র নামধারী মুষ্টিমেয় কিছু কুলাঙ্গার এসে মাড়িয়ে দিয়ে যাবে আমরা কি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখব? না এদের লাগাম টেনে ধরব?

"সব কিছু ছক করা আছে. নীল নকশার জাল ছড়িয়ে আছে. দেশজ বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের প্রলুব্ধ, বিভ্রান্ত ও বিপথ গামী করার আশ্চর্য সুন্দর পরিকল্পনা ভালো ভাবে বিন্যাস করা আছে। সেই সুগভীর পরিকল্পনার আবর্তের মধ্যে ঢুকতে বাধ্য জাতীয় নেতারা। যদি না ঢোকে তবেই মৃত্যু অনিবার্য। মৃত্যুর কমে বড় শক্তি কখনই সন্তুষ্ট হয় না।"

"বাংলাকে, বাঙালিকে, বাংলার পূর্ণ ইতিহাসের মহিমাকে এখন চিনে নিতে অনেক সাধ্য সাধনা দরকার। শেখ মুজিব যাকে হৃদয় দিয়ে বুঝেছিলেন এখন তাকেই বুদ্ধি ও মেধা দিয়ে বুঝতে হবে। কাজটি অতি জটিল আর সহিষ্ণুতা ও সংযম প্রত্যাশী.....সে আশ্রয়কে মজবুত ও সংহত করবে কে?
আমি করব,তুমি করবে,সে করবে। করতেই হবে। নাহলে পুনরায় অন্ধকার ছুটে আসবে। আবার সিঁড়িতে উঠানে ও গৃহকোণে রক্ত গড়িয়ে পড়বে। সে রক্তের পরিমাপ করতে আবার অনেক দেরী হয়ে যাবে......"


উদ্ধৃতি: "এখনই প্রস্তুতি".লেখক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
ছবি: ইন্টারনেট

প্রবাসে-পরবাসে : বিমান, নেড়ি কুকুর এবং যাত্রী-সেবা সমাচার।



(প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ আর দুঃস্বপ্নগুলো একে একে বলে যাবার অদম্য স্পৃহা থেকে ধারাবাহিক পর্ব শুরু হলো).......

***
মায়ের অবস্থা যখন তখন। দেখতে হলে এখুনি দেশে যেতে হবে। স্পন্সরকে বলার সাথে সাথে পাসপোর্ট রেডি!
টিকেট চাই "বিমানের" বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন "আকাশে শান্তির নীড়"! এই বিমানের টিকেট AVAILABLE কথাটি এই দেশ এসে অব্ধি শুনিনি!
কোথাও টিকেট না পেয়ে অগত্যা বিমান অফিসে! কর্মকর্তা আমার সাথের ভদ্রলোকের পূর্ব পরিচিত। সব শুনে বললেন, " কোন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে তারিখবিহীন একটা ব্ল্যাংক টিকেট কিনে নিয়ে আসেন।"
পাশেই ট্রাভেল এজেন্সি। টিকেট কেনা হলো। চোখের ইশারায় লেন-দেন!
কর্মকর্তা নিজ হাতে-ই টিকেটের উপর লেবেল লাগলেন, তারিখ বসালেন! ডিজিটাল দেশে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সব ঠিক করা হলো!
এরপর তিনি কাউকে ফোন জানালেন, "আপনার ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়ে গেছে, আপনার ফ্লাইট দুদিন পর!"
কতো ক্ষমতাধর ব্যক্তি!নমোঃ নমোঃ!

***
প্রবাসীদের প্রায় সবারই নিজ দেশের প্রতি মমত্ব একটু বেশি-ই থাকে, নাড়ির টানে এরা স্বদেশকে লালন করে বুকের ভেতর।
আর তাই দেশের ভালোমন্দ দুই-ই নিয়েই তাঁদের অনেক আগ্রহ-হতাশা।
আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে দূর-সুদূরে এরা এক রকম বন্দী, অসহায় জীবন যাপন করেন, খেটে খাওয়া এসব শ্রমজীবীদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ,
বিদেশী মুদ্রার অব্যাহত সহায়তা সরকারী রিজার্ভ বাড়ানোতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও এরা নানা বৈষম্য, হয়রানির শিকার হন নিজ ভূমেই।
একজন কর্মজীবী প্রবাসী স্ত্রী-পুত্র-কন্যা কিম্বা আপনজন রেখে একটু সুখের আশায় বুক বেঁধে ২ বা ততোধিক বছর কাজ করার পর ছুটি কাটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় বাবার জন্য বাতের ব্যথা নাশক চেইন, তসবি, জায়-নামাজ, মায়ের জন্য কম্বল, স্ত্রীর জন্য শাড়ি, কসমেটিকস ইত্যাদি টুকি-টাকি নানান জিনিস কিনেন। সবাইকে খুশি করতে হবে যে!

****
দেশে যেতে হবে চাই টিকেট বুকিং। যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার প্যাকেজ দেয়া আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন নয় সবাই নিজের দেশের "বিমান" বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকেট কিনতে মরিয়া! নাড়ির টান বলে কথা! দুটি টাকা বিমান পাক, দেশ এগিয়ে যাক। অথচ বিমানের লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যের ভাড়া সবচেয়ে বেশি। সর্বসাকুল্যে মাত্র ৮টি উড়োজাহাজ নিয়ে চলছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চলছে! অথচ টিকেটের দাম অন্য যেকোনো এয়ারলাইন থেকে ৫/৭ হাজার টাকা বেশি তবু কেউ পরোয়া করেনা।

এয়ারপোর্টে 8 ঘণ্টা আগে রিপোর্ট করার নিয়ম। বিমানের বেলায় সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল ০৩.৪৫ মিনিটের ফ্লাইট। রাত ১১ টায় এয়ারপোর্টে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন নয় সারারাত
এয়ারপোর্টের বাইরে কাটানোটাই এখানে বিমানের যাত্রীদের অলিখিত নিয়ম! সকালে কঠোর কাস্টমস চেকিং, নির্দিষ্ট ওজনের বেশি মালের জন্য কিলো প্রতি প্রায় ১০০০ টাকা পরিশোধ করে কিম্বা ম্যানেজ করে নিতে হয়! আনুমানিক সকাল পৌনে ৮ টায় বিমান আকাশে পাখা মেলে!

****
বাংলাদেশে পৌঁছে সবার আগেই চাই নিজের কার্টুনগুলো/লাগেজগুলো। বেল্টের সামনে অপেক্ষারতদের চারপাশ থেকে দালালের দল ছেঁকে ধরে! "ভাই কাস্টমস দেবার মত কিছু আছে!
আমার সাথে কন্টাক্ট করেন আমি বিনা কাস্টমসে আপনার মাল ছাড়াবো!"
মনে প্রশ্ন জাগে, "এত স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে এরা ভেতরে প্রবেশ করলো কি করে!
পকেট কেটে, হ্যান্ড ব্যাগ চুরি করে মুহূর্তেই কেটে পড়ে কি করে?"
ওই সিসি টিভিগুলো কোন কামের জন্য বসানো?

****
মায়ের মৃত্যু সংবাদে মাত্র দুই মাসের ছুটিতে ২০ ডিসেম্বর পাবনা সদরের জালাল বাংলাদেশে গিয়েছে এয়ারপোর্টে তাঁর মালামাল আসেনি! ক্লেইম করেও এতদিনে সে তার কার্টুনের হদিস পায়নি।
সে জানিয়েছে ওই একই ফ্লাইটে আনুমানিক ৫০/৬০ জন যাত্রীর লাগেজ আসেনি।
গত ২রা জানুয়ারি আনোয়ার হোসেন নামের কেরানীগঞ্জের একজন যাত্রী তার লাগেজ খুঁজে পাননি। ব্যাগেজ ক্লেইম করে দু'দফা এয়ারপোর্টে গিয়েও মালের হদিস পায়নি। কর্তা-বাবুরা বলেছেন,
"আপনাকে আসতে হবে না। আমরা ফোন করে জানাবো।"
বিমানের এমন একটি ফ্লাইট নেই যেটিতে এই লাগেজ গায়েব/ না আসার মত মত ঘটনার রেকর্ড নেই!
****
রিয়াদ এয়ারপোর্টে বাঙালিদের ঘুষ-লেনদেন ওপেন সিক্রেট। একটি সূত্র বলছে বিমানে কর্মরত একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সংঘবদ্ধ ভাবে এয়ারপোর্টে যাত্রীর মালামালের বদলে স্মাগলার, আমদানি-কারকদের মাল প্রেরণ করছে। প্রতি কিলোতে অতিরিক্ত ১০০০ টাকা আদায় করা কিম্বা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া মালগুলো ফ্লাইটে তুলে দেয়া হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীর মালামাল "কার্গো বিমানে" তুলে দেয়া হচ্ছে। সেগুলো সোজা বিমানের "গোডাউন"-এ চলে যাচ্ছে। অসাধু-চক্র যাত্রীর কার্টুন খুলে মালামাল হাতিয়ে কার্টুনগুলো নিয়ে হুবহু পূর্বের মত করে বেঁধে রাখছে।
সংঘবদ্ধ এই চক্রের কারণে বিমানের ইমেজ ধ্বংস হয়েছে অনেক আগেই, বাকি রয়েছে লাল বাতি জ্বালানো। কর্মরতদের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচার, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, তুঘলকি কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় না দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আছে!
ভুক্ত-ভুগি, তাঁদের আত্মীয়-স্বজন কিম্বা আমি নিজেও কোনদিন বিমানের টিকেট কেনার আগে ৫০ বার ভাবব।

পাদটীকা: প্রিয় পাঠক যদি বলি, "হয়ে যাক একটা বিভাগীয় তদন্ত আপনারা কি দাবিটির সাথে একাত্ম হবেন না?"

প্রবাসীর সুখ-দুঃখ পর্বগুলোতে সাথেই থাকুন।

ছবি: ইন্টারনেট

ধূমপান: প্রতি ১০ জনে একজনের মৃত্যু

ধূমপান: প্রতি ১০ জনে একজনের মৃত্যু


এক সময় ধূমপানকে ফ্যাশনেবল আর গ্লামারাস মনে করা হলেও ধূমপানের কুফলের কারণে সৃষ্ট রোগে পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর হার এখন সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)এর মতে বিশ্বব্যাপী প্রতি ৬.৫ সেকেন্ডে একজন ধূমপায়ী মারা যাছে।
ধূমপানের কারণে প্রতি ১০জন পূর্ণ বয়স্কের মধ্যে ১জন মৃত্যুবরণ করে। ধূমপানের মৃত্যুর হার এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর চাইতেও বেশি।
মৃত্যুর হার প্রতিরোধে ধূমপানের বিরুদ্ধে সবাই সচেতন।
তবুও উন্নত দেশগুলো বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা এবং খোদ আমেরিকাতে ধূমপায়ীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

গোটা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১/৩ শতাংশ মানুষ ধূমপানে আসক্ত। আর ধূমপান জনিত রোগের কারণে এদের মধ্যে প্রতিবছর আনুমানিক ৬০ লাখ লোক মারা যাচ্ছে।
শুধু মাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লোক ধূমপান জনিত রোগে মারা যায়। ধূমপানে পুরুষের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ২কোটি ৫০ লাখেরও অধিক নারীও আসক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে গত ১০-১৫ বছরে ধূমপায়ীর সংখ্যা প্রায় দিগুণ হয়েছে। কিশোর-কিশোরী এবং গ্রামীণ জনপদে নারীদের ধূমপানের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে নারী তামাক সেবী বেড়েছে ২৪.৪% থেকে ৩২.০% এবং নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়েছে ১.৩ %।
মোট জনসংখ্যার ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ তামাক এবং ধূমপানে আসক্ত! সংবাদটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ।
বাংলাদেশে আনুমানিক এক লক্ষ একর জায়গায় তামাক চাষ হচ্ছে। তামাক উৎপাদন, বিড়ি বা সিগারেট তৈরি কারখানায় কর্মরতদের মধ্যে ধূমপানে আসক্তি ছাড়াও প্রতিবছর প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ ক্যান্সার, যক্ষ্মা সহ নানা কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বছরে প্রায় ৫৭ হাজার জন নর-নারী মারা যাচ্ছে এবং আনুমানিক ৪ লক্ষ মানুষ ধূমপান জনিত রোগর জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে।

সিগারেটের ক্ষতিকারক উপাদান: ৪০০০-এর অধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান একটি সিগারেটকে প্রজ্বলিত করে। এর মধ্যে ৪৩টি রাসায়নিক উপাদানকে ক্যান্সার সৃষ্টিতে দায়ী
৪০০টি কে বিষাক্ত এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম:- কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, এমোনিয়া ইত্যাদি।
এই উপাদানগুলো ধূমপায়ীকে প্রত্যক্ষভাবে এবং তার আশেপাশের লোকজনকেও পরোক্ষভাবে সমান ক্ষতি করে থাকে।

সিগারেটের আসক্তির কারণ: ধূমপানের ফলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক নিকোটিন (মানবদেহের রক্তে ছড়িয়ে পড়ে) এবং এলকালয়েড জাতীয় উপাদান শরীরে এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি করে। এই নিকোটিন মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক উপাদান তৈরি করে মানবদেহের মস্তিষ্কের প্রশান্তি-দায়ক কোষে ছড়িয়ে দেয় ফলে ধূমপায়ী সাময়িক ভাবে মানসিক প্রশান্তি লাভ করে, উদ্দীপ্ত হয়।
এছাড়াও ধূমপানে নির্ভরশীলতা অনেকটাই মানসিক সমস্যা বলেও মনে করা হয়।

ধূমপানের ফলে দাঁত হলদেটে, জামা কাপড়ে, মুখে দুর্গন্ধ ছাড়াও সরাসরি যে রোগগুলোর জন্ম দেয় তা হলো:

ফুসফুস: শতকরা ৯০ জন ধূমপায়ী ফুসফুসের ক্যান্সার, যক্ষ্মা, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি সহ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হয়।

হৃদপিণ্ড এবং রক্ত সঞ্চালনকারী: রক্ত সঞ্চালনকারী শিরা-উপশিরা ক্ষীণকায় হয়ে যাওয়া, ধমনী এবং ধমনী-তন্ত্র দুর্বল করে দেয়ার ফলে করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক, পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিজ, হাত-পায়ে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপে সহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়।

ক্যান্সার: ধূমপানের ফলে ব্লাডার, সারভিক্স, এসোফেগাস, ফুসফুস, ওরাল ক্যাভিটি(মুখ), গলা, পাকস্থলী, প্যানক্রিয়াস, কিডনি, একিউট মাইলেওয়েড লিউকেমিয়ার মত ভয়াবহ ক্যান্সার হতে পারে।

পাকস্থলী: ধূমপানের ফলে পাকস্থলীতে এসিড সরবরাহ বেড়ে যায় যা পেপটিক আলসার ছাড়াও গ্যাস্ট্রো-এসেফাগাল রিফ্লাক্স নামক রোগের জন্ম দেয়।

এছাড়াও অবসাদ গ্রস্ততা, কাজে-খেলাধুলায় উদ্যম কমিয়ে দেয়া, অল্প বয়সে ত্বকে বলিরেখা, হাড় বিশেষ করে উরু, কব্জি, মেরুদণ্ডের ক্ষতি ছাড়াও যৌন-ক্ষমতা হ্রাস, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
নিদ্রাহীনতা, মহিলাদের মৃত শিশু বা অকাল প্রসব, অপুষ্ট সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে থাকে। ধূমপানে মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


ধূমপানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি: অর্থের অপচয়। একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এটা অতিরিক্ত বোঝা বৈ কিছু নয়।
ধূমপানের কারণে মানুষ এবং সমাজের ক্ষতি। ধূমপান মানেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন। ধূমপান মানেই দারিদ্রটা বৃদ্ধি। তামাক উৎপাদনে কৃষি জমিন ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির সম্মুখীন।
এক কথায় বলা যায় ধূমপান তথা তামাক উৎপাদন, বিপণন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়।

২০০৫ সালে বাংলাদেশে তামাক এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন করা হয়। এই আইনে প্রকাশ্য বা উন্মুক্ত স্থানে ধূমপানের জন্য ৫০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়!
এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। ধূমপান প্রতিরোধে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ অত্যাবশ্যকীয় করা হলেও ধূমপায়ীদের আকৃষ্ট করতে
সিগারেট এবং বিড়ি উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্ণিল পোষ্টার, বান্টিং, ডেঙ্গলার, স্টীকার এবং মনোহর ডিসপ্লেতে ফুটপাত থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো সেজে থাকে সারা বছর জুড়েই।
বিড়ি উৎপাদনকারীরা আরো একধাপ এগিয়ে। তারা ক্রেতা আকৃষ্ট করতে গ্রামে-গঞ্জে "জোকার"সাজিয়ে কখনো কখনো বিনামূল্যে বিড়ি বিতরণ করে থাকে।

ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। ধূমপানকে না বলুন।

আপনি কি একজন ধূমপায়ী?
আপনি জানেন কি ধূমপানের মত বদ-অভ্যাস ত্যাগে আপনার কঠিন মনোবল এবং সদিচ্ছা-ই দায়ী?