জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

সমসায়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমসায়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১২

আমার ঈদ ভাবনা: ZERO Gravity তে ভাসছি!!!

আমার ঈদ ভাবনা: ZERO Gravity তে ভাসছি!!!

আমার ঈদ চিন্তা, এবং মনের অনেক প্রশ্ন,,, জবাব গুলো খুঁজে বেড়াচ্ছি......


১। উত্তরবঙ্গে গ্রাম্য শালিসে ইউপি চেয়ারম্যান ও গাঁয়ের তথাকথিত মোড়ল কর্তৃক প্রকাশ্যে নির্যাতন কারীদের এবং ঐ গৃহবধূর ঈদ কেমন হবে?



২। সাভারের আমিন বাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে ডাকাত সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা ৬ ছাত্রের পরিবার ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ঈদ কেমন হবে?


৩। মিরেরসরাইয়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্যদের ঈদ কেমন হবে?




৪। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথেরিন, তাঁর পরিবার এবং নিহত মিশুক মুনীরের স্ত্রী মঞ্জুলী ও তাঁর পরিবারের ঈদ কেমন হবে?



৫। রাজনৈতিক হয়রানি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক বিচার অপেক্ষায় নেতা কর্মীদের ঈদ কেমন হবে?


৬। ১/১১ এর রূপকার, বিদেশী প্রভুদের ইংগিত ও ষড়যন্ত্রে ৩ উদ্দিন গংয়ের গ্রেফতার, নির্যাতন, অপমান হয়রানির স্বীকার যারা হয়েছিলেন তাদের ঈদ কেমন হবে!!

মঈন উদ্দীনকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাড় না করিয়ে নিরাপদে দেশ ত্যাগ করার সুযোগ দান কারীদের ঈদ কেমন হবে?


৭। বিডিআর বিদ্রোহের পরিকল্পনাকারী ও হত্যায় জড়িত সন্দেহে আটকদের ও তাদের পরিবারের ঈদ কেমন হবে?


৮। জেল খানায় আটক যুদ্ধ অপরাধী ও তাদের পরিবারের (না কি এটাই তাদের জীবনের শেষ ঈদ হতে যাচ্ছে?) ঈদ কেমন যাবে?


৯। অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রী, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে যারা সোচ্চার তাদের ঈদ এবং

মন্ত্রীসভা থেকে এদের বহিষ্কার কেন করা হবেনা এই মর্মে কাল্পনিক কোন উচ্চ আদালতে মহামান্য বিচারপতি সরকারের প্রতি রুল জারী করে বসলে তাঁর ঈদ কেমন হবে?


হাসিনা, খালেদা, এরশাদ আপনারা দ্যাশের মা বাপ! আপনাদের জন্য ঈদের শুভেচ্ছা!!


ঈদ মোবারক।

ছবি সূত্র: আন্তঃজাল।

সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১২

পোলা তো নয় যেন আগুনের গোলা!!!

পোলা তো নয় যেন আগুনের গোলা!!!




ঘুম থেকে উঠে Face book Status দিলাম:
"ওরে তোরা হেসে খেলে
সমালোচনা পেছনে ফেলে
৫০ ওভার যাবি খেলে;
দেখবি ভয়ঙ্কর ব্যাঘ্র দেখে "Eng লেন্ট" ভাগছে উইকেট ফেলে।
টয়লেটে ডুকে তারা বসে তখন গোমড়া মুখে
ভাবখানা যেন "জামাল গোটা" খেলাম কোন দুঃখে!!!!!Tigers Soar Like An Eagle"

তবু মনে শান্তি নাই এসে বসলাম television এর সামনে,
টস এ জেতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল এমন প্রশ্ন আমার মাথায় যেমন ঘুরছিল আমার বিশ্বাস
অনেকের মাথায়ও তাই ঘুরছিল
দল নায়ক ANDREW STRAUSS ৩১ বলে ১৮ রান আর MATT PRIOR কে ২০ বলে ১২ রান এ সংগ্রহ করে
ফিরে যেতে দেখে অনেকের মুখের হাসি দাঁত কেলিয়ে বেরিয়ে আসছিল।৩৯ রান এ ২ WICKET আর ৫৩ রানে ৩ wicket খারাপ লাগ ছিলনা!Eoin Morgan ৭২ বলে ৬৩ আর Jonathan Trott এর ৬৭ ঝড়ো রান বাংলাদেশ শিবির এ কালো ছায়া নেমে আসে!
মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হাত ছাড়া হতে যাছে.. ৩৮.৪ ওভার এ EION MORGAN ৪৩.৪ ওভার এ jonathon trott আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ শিবিরে সোনালী সূর্যের দ্যুতি ছড়িয়ে পরে,,সেই সাথে stadium উপচে পড়া দর্শক আর tv র সামনে বসে থাকা কোটি কোটি দর্শক আশান্বিত হয়ে পড়ে।
এরপর দ্রুত পট পরিবর্তিত হয়ে পড়ে,গোটা ম্যাচটি চলে আসে বাংলাদেশ দলের নিয়ন্ত্রণে.... একের পর এক wicket এর দ্রুত পতন ও ঘটে।
২২৬ রানের টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশ দল মাঠে নামে মাত্র ৭.১ ওভার এ তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস অর্ধ শত করে ইংলিশদের জানান দিল আমরাও পারি...মনে মনে বলি,” 3 cheers Tigers!”.মাত্র ২৬ বলে ৩৮ রান করে Bresnen এর বলে বোল্ড আউট হলেন তামিম!দুর্ভাগ্য তামিম!
একটু আশাহত হলাম,এবার জুনাইদ সিদ্দীকি গেল মাত্র বারো রানে ,,হায় হায় দলের মধ্যে ছোঁয়াচে কলেরা লাগছে!
রাকিবুল হাসান Shahzad এর বলে যেভাবে বোল্ড হলও!!পর Stadium জুড়ে পিনপতন নীরবতা আর বুকের ভেতর হাতুড়ি বাজা শুরু ..তোরা আমাদের এত সম্ভাবনার ম্যাচটাকে ক্রমশ: এমন করে নাগালের বাইরে যেতে দিস!

চাই কঠিন পণ শক্ত মনোবল,Come on Tigers!!!

একসময় মনে হল ম্যাচ জেতা শুধু সময়ের ব্যাপার।কিন্তু মাত্র দুই ওভারের ব্যবধানে সাকিবুল হাসান, মুশফিকুর
রহিম আউট হয়ে গেলে আবার সবার মুখে হতাশার কালো ছায়া নেমে আসে।দুঃসাধ্য মনে হতে থাকে,,নাঈম ইসলাম চলে গেলে আবারও মুষড়ে পড়া।টানটান উত্তেজনা।কী হয় কী হয়!
খেলায় হার-জিত থাকবে কিন্তু এই চলমান ম্যাচগুলো দেখে আমরা একটা জিনিস শিখেছি সেটা হল “দলমত নির্বিশেষে আমরা খুব সহজে একত্রিত হতে পারি,দেশের সুনামের জন্য আমরা কিভাবে নিজেদের ভালবাসা উজাড় করে দিতে পারি...এমন একজন বাঙালি খুঁজে পাওয়া যাবেনা যারা হৃদয় থেকে চায়নি আজকের এই খেলায় বাংলাদেশ জিতুক...হয়েছেও তাই।

“Cheers টাইগার্স!

সমালোচনা কারীদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য, জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে যখন সকল রাজনৈতিক দলগুলো বার্থ তখন তোমাদের এই জ্বলে উঠা তাদের অসহায়ত্বের কথা আরও বেশী বেশী মনে পড়ে যায়।
আফসোস আমরা নৈতিকতার,নিজেদের হীন মানসিকতার বিকাশ ঘটাতে পারিনা তাই এরা ভালো খেললে আমরা মাথায় তুলে নাচি,,একটু খারাপ করলে সমালোচনার নামে তাদের গুষ্টির পিণ্ডি চটকাতে একটুও দ্বিধা করিনা।

আমরা এক নোবেল পদকের সম্মান দেই ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিটি রাজনীতি করার অভিলাষ না দেখান,,যখনই দেখি তিনি সাংবিধানিক অধিকার কিম্বা দলের সমালোচনা করেন আমরা তাকে ঘুষখোর-সুদখোর বানিয়ে টেনে হিচঁড়ে নামিয়ে আনি,আমরা একবারও ভাবিনা এটা আমাদের জন্য কতটা দুর্ভাগ্যের কারণ।যাকে নিচে নামানো হল তার চেয়ে বেশী আমরা নেমে গেছি মানসিকতায়!
আমরা এখন বলি ঘুষখোর-সুদখোর,,আগে বলতাম না,,একজন ইউনুসকে টেনে নামিয়ে যদি আমরা তথাকথিত ক্ষুদ্র-ঋণ কিম্বা চড়া সুদের ঋণ দাতা NGO গুলোকে কে প্রতিহত করতে পারতাম,,,যদি পারতাম দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান কিম্বা আমরা নিজেরাই আত্ম মর্যাদা-শীল জাতি হিসেবে নিজেদের সকল সম্ভাবনা কাজে লাগাতাম তবে পাশ্চাত্যের শোষক গোষ্ঠীর বানানো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলতে গিয়ে NGO গুলোকে আমরা আমাদের এইভাবে শোষণ করার সুযোগ দিতাম না।তথাকথিত NGO যুবক হাজার কোটি টাকা চোখের সামনে দিয়ে নাই করার দুঃসাধ্য কোথায় পায় প্রশ্ন পাঠকের কাছে।মানব সম্পদ উন্নয়ন,শিক্ষা কিম্বা অন্য যত গুলো খাত আছে যেখানে NGO গুলো ঋণ দান করে আর যেভাবে টিনের চালা,হালের বলদ নিয়ে যায় তা যদি বন্ধ হত তবে আমরা এক ইউনুস এর বিদায় কে স্বাগত জানাতাম।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১২

রোমানা মঞ্জুরের স্বামী সাইদ হাসানের মৃত্যু: সমাজের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন

রোমানা মঞ্জুরের স্বামী সাইদ হাসানের মৃত্যু: সমাজের প্রতি ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন


বসে বসে টিভির খবর দেখছিলাম সম্ভবত (RTV খবর) হঠাৎ করেই দেখলাম, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষিকা রুমানার স্বামী সাইদ হাসান আত্মহত্যা করেছেন!"

ফুটেজে ছবি ভেসে উঠলো শশ্রুমন্ডিত একজন বয়স্ক লোক সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় তর্জনী উঁচিয়ে, তর্জনী সবার দিকে ঘুরিয়ে বলছিলেন, "রুমানা মনজুর ছিল আত্ম-স্বীকৃত ব্যভিচারিণী। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী মিডিয়া। আমি একজন পুরুষ মানুষ দেখিনি! আপনাদের মধ্যে কেউ পুরুষ নন! " এরপর আর কোন চ্যানেলে তাঁর ঐ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পাইনি।


****
এরই মধ্যে সবাই জেনেছি, মঞ্জুরকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাইদ হাসান কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ই ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মারা গেছেন। সাইদ মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে কমোডের ভেতর মুখ চেপে ধরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছিল হাসপাতাল সূত্র। এ সময় তার হাত বাঁধা অবস্থায় ছিল বলেও জানা যায়। কারা কর্তৃপক্ষ সাইদের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও তার পরিবার এটিকে "পরিকল্পিত হত্যা" বলে অভিযোগ করেছে।


****
সাইদের অমানবিক নির্যাতনে রুমানা সারাজীবনের জন্য তার দু’টি চোখ হারান। দশ বছরের ছোট নাভেদ তাহের দীন নামক এক যুবকের সাথে সাথে রোমানার পরকীয়া ছিল বলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলছিলেন । তথাকথিত নারীবাদী, মিডিয়া সহ অনেকেই রুমানার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তর্জনী উঁচু করেছিল সাইদের দিকে!
নিঃসন্দেহে নিহত সাইদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি গুরুতর ছিল। মামলাটিও বিচার প্রক্রিয়াধীন ছিল।

****
অথচ স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাইদকে মানসিক রোগাক্রান্ত বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।
একজন স্ত্রী রোমানা কিম্বা তাঁর পরিবারের কেউ-ই ঘটনাটি ঘটবার আগ পর্যন্ত জানলো না, "সাইদ অপ্রকৃতিস্থ ছিল! তাহলে সাইদ কি গুণ্ডা ছিল? নারী ধর্ষণকারী, ব্যভিচারী? মাস্তান, মাতাল কিম্বা মদ্যপ?
কত সুন্দর কাহিনী বিন্যাস, কেউ-ই অভিযুক্তের কথা শুনল না! আমরা বিচারটি দেখতে পেলাম না।

****
সাইদের বাবা সাইদ আহমেদ কবির পরে সাংবাদিকদের আরো বলেছিলেন, "আপনারা মিস ইউজড হয়েছেন। তখন রোমানার বেশ কিছু ঘটনার তথ্য প্রমাণ নিয়ে আপনাদের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা বলেছেন, আমি ক্রিমিনালের বাবা বড় ক্রিমিনাল। যখনই ছেলের জামিনের জন্য যেতাম, সেখানে কিছু নারী নেত্রী তার প্রতিবাদ করতেন। আর আপনারা তা সমর্থন করেন। ঘটনার নেপথ্যে কি ছিল তা আপনারা কখনো জানতে চাননি। তিনি গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, রোমানার বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রমাণ যে ক্যামেরায় ছিল ডিবি বাসা থেকে তা নিয়ে যায়। রোমানার চোখ ঠিক আছে। শুধু মিডিয়ার সামনে গেলে সে কালো চশমা পরে যায়। "

****
তাঁদের একটি কন্যা শিশু রয়েছে। ট্রমায় আক্রান্ত। যদি বলি এই শিশুটির আজকের অবস্থার জন্য একমাত্র দায়ী আমাদের সমাজ তাহলে কি কেউ দায় নেবেন
নারী নির্যাতন, নারীর অসম্মানের বিরুদ্ধে আমরা সবাই সোচ্চার। প্রচলিত আইনে তার বিচার হলে আমাদের কিছুই বলার থাকতো না।
ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা একটি দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আজকে সাইদকে হত্যার ইংগিত দেয়া হচ্ছে। কারাগারের প্রিজন সেলে দায়িত্ব-রতদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
বলা হয়েছে যে ধরনের কমোডে মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করা হয়েছে তা আদৌ সম্ভব নয়। পিছনে হাত বেঁধে রেখে একটি লোক আত্মহত্যা করলো, তাঁকে যেই চিকিৎসক চিকিৎসা করছিলেন তিনিও সাইদের মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি টের পেলেন না?

****
যারা রোমানার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তারাও সাইদের অভিযোগটি আমলে নেননি, পরকীয়ার বিষয়টিও না। সাইদ সমাজের নিষ্ঠুর এবং একপেশে আচরণে কেমন ছিলেন সেটা তিনিই জানতেন।
সবাই চুপসে গেছেন। তথাকথিত নারীবাদীরাও চুপসে গেছেন।

****
দায়িত্ব পালনে প্রিজনারের ব্যর্থতা, কর্তব্যে অবহেলার জন্য তার অপসারণ হয়েছে বলেও শুনিনি। দায়িত্ব-রত কারারক্ষীদের কর্তবে অবহেলার জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে এটাও না।
নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি? না হয়নি। রোমানা মঞ্জুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ কেউ খতিয়ে দেখছেন কি?। ডিবি পুলিশ কর্তৃক জব্দ-কৃত ছবি এবং আলামত জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে কি?
****
বড় হয়ে অনুশে কাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে নিবে? রোমানা মঞ্জুর নাকি বাবা সাইদের????

ফিরে দেখা ২০১১: আলোচিত নাকি আলোকিত হবো

ফিরে দেখা ২০১১: আলোচিত নাকি আলোকিত হবো


*উচ্চ আদালতের রায় পাবার আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা জাতীয় সংসদে একতরফা ভাবে বিলোপ করে সরকারী দল ব্যাপক সমালোচিত হন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে বহুল আলোচিত ট্রানজিট এবং তিস্তা চুক্তি জন সমক্ষে প্রকাশ না করা, তিস্তা নৌকা চলাচলের অনুপযুক্ত করার কারণে, টিপা-মুখ বাঁধ নির্মাণে নীরবতা, ৯ মিনিটে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগের আইনটি জাতীয় সংসদে পাশ করার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হয়েছে।

*গত বছরে দেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত ঘটনা ছিল তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীরের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া। দেশের বিবেকবান মানুষেরা সোচ্চার হওয়া। যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে জাতীয় শহীদ মিনারে ঈদ উদযাপন করা। দুর্নীতির অজুহাতে পদ্মা সেতুর টাকা আটকে যাওয়া, বিনা পরীক্ষায় ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবার সুপারিশ কারী নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান খান।

*রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার গত বছর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল।

*যুতসই আন্দোলনের অনেক উপাদান থাকা সত্ত্বেও শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা এবং ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়ায় বিএনপি এবং তাদের রাজনীতি জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

*গত বছর ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা, অস্থিরতার একটি বছর অতীতের সরকারগুলোর ন্যায় বিরোধীদল ঠেকাতে সরকারের "জিরো টলারেন্স" মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
সরকারের মন্ত্রীবর্গ নানান ধরনের বক্তব্য দিয়ে অনেক বেশ সমালোচিত হয়েছেন। নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা, জাতীয় সংসদের হুইপের উপর আক্রমণ, হত্যা-গুম-খুন বেড়ে গিয়ে জনমনে আতঙ্ক বৃদ্ধি, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মৃত্যূদন্ড প্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা প্রধান বছরের আলোচিত ঘটনা ছিল।

*১৯৯৬ সালের মত শেয়ার বাজার থেকে হাজার কোটি টাকা লোপাটে দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করার ব্যর্থতা,আমদানি নির্ভর অর্থনীতি, বেসরকারি ব্যাংক গুলো থেকে ঋণ নেয়ার ঘটনা

*জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় সফরে সেঞ্চুরি করার জন্য, অসুস্থ চিকিৎসাধীন প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাককে দেখতে না যাওয়া, বিদেশ সফরে ফলপ্রসূ কিছু না পাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাক্তার দিপুমনি ব্যাপক সমালোচিত হন

*পুলিশকে উস্কে দিয়ে ,রাষ্ট্রীয় ভাবে লালন করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ঘুষখোর হিসাবে পরিচিত করার জন্য, পুলিশকে দলীয় ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী হিসাবে ধরে রাখার সার্থকতার জন্য, গুম খুন, দলীয় সন্ত্রাসকে লালন করার জন্য, মিরপুরের বহুল আলোচিত ছাত্র হত্যা, পুলিশের বুটের তলায় মানবতা হত্যার জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন

*জাতীয় ভাবে দ্রব্য মূল্যের দাম অসহনীয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি, ভোজ্য তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বৃদ্ধির ঘটনা, জীবন যাত্রার মান অসহনীয় বৃদ্ধি

সরকারের জঙ্গিবাদীদের নির্মূলে, RAB এর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কিছু সফলতাও রয়েছে।

পুনশ্চ: পুরনো কাসুন্দি ঘাটাঘাটি নয়। আমরা চাই রাজনৈতিক সহনশীলতা। গন মতের প্রতি শ্রদ্ধা, দলের লোক নয় দেশের ১৬ কোটি মানুষকেই সকল ক্ষমতার উৎস ভাবা হোক। দেশের আপামর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চাবিকাঠি রাজনীতিবিদদের হাতে, একমাত্র তাঁদের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতাই পারে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যার একটি দেশ বাংলাদেশকে স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি জাতি হিসেবে পরিচিত করতে।
ছবি: ইন্টারনেট